বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

কমলনগরে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, আক্রান্তের ৩৫ ভাগ জুলাইয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি মোকাবেলায় কঠোর লকডাউন চললেও মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দিন দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ৪১টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এসেছে ১০ জনের। আক্রান্তের হার শতকরা ২৫ ভাগ।
এদিকে জুলাই মাসে এখানে ১৩৯ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। অথচ এর আগের ১৫ মাসে এখানে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ২৬১ জনের। রোববার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৪০০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ২৭৪ জন এবং হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৫ জন রোগী। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন।
সূত্র মতে, উপজেলায় মোট আক্রান্তের ৩৫ ভাগ শানাক্ত হয়েছে সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে। এ মাসে ৪১৪টি নমুনার বিপরীতে ১৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের শতকরা হার ৩৪। অথচ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৮৬৭টি নমুনার বিপরীতে করোনা শনাক্ত হয় ২৬১ জনের শরীরে। ওই সময়ে শনাক্তের হার ছিল ১৪ শতাংশ।
এদিকে এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে অন্য সময়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন তৎপরতা দেখা গিয়েছিল; এবার সে রকম দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বিনা প্রয়োজনে হাটবাজারে জড়ো হচ্ছেন। ফলে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। করোনার ভয়াবহতা এড়াতে এখনই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন তারা।
সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের বলেন, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩৯ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অথচ এর আগে উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল।
তার বলেন, গ্রামের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সংক্রমণ রোধে সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে গ্রামের মানুষদের মধ্যে উদাসীনতা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মানুষকে সচেতন করতে নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষের মাঝে সচেতনতা না বাড়লে প্রশাসনের কঠোরতা কোনো কাজে আসবে না। করোনা সংক্রমণ রোধে মানুষের সচেতনতাই মুখ্য বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!