মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১১:৪৭ অপরাহ্ন

মেঘনার ভাঙনরোধে একনেকে প্রকল্প অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলাকে রক্ষায় তিন হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলাধীন বড়খেরী ও লুধুয়া বাজার এবং কাদিরপণ্ডিতের হাট এলাকা ভাঙন হতে রক্ষাকল্পে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক ওই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেন।
অনুমোদিত এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে-প্রতি বছর ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার নদী ভাঙনের কবল হতে এলাকাকে রক্ষাকরণ, নদীভাঙন হতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৯/২ নম্বর পোল্ডার এবং ৫৯/২ (সম্প্রসারণ) এর বাঁধ রক্ষাকরণ, মেঘনা নদীর বামতীর বরাবর ভাঙনকবলিত ৩১ দশমিক ৩২৬ কিলোমিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলাধীন কৃষিজমি, বাজার, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, সড়ক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো রক্ষাকরণ এবং নদীভাঙন রোধের মাধ্যমে আনুমানিক ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২২০ কোটি টাকার বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষা এবং প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর এলাকা জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের পানি প্রবেশ রোধ করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এছাড়াও পরিবেশগত উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, প্রকল্পটি অনুমোদনের খবর ভাঙনকবলিত এলাকার পৌঁছালে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ছয় লাখ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করেছে। বৃহৎ এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ মজিদ বলেন, মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কমলনগর উপজেলার এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বিলীন হয়ে গেলেও ভাঙনরোধে তেমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভাঙন প্রতিরোধে আজ প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ায় আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য যারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আমিন মাস্টার ও রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে রামগতি-কমলনগরের অসংখ্য মানুষ দিন দিন সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। মেঘনার এ ভাঙনরোধে প্রকল্প গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিও ছিল। বৃহৎ এ প্রকল্পটি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। সহায়-সম্বল হারানো অবহেলিত এ জনপদের মানুষের কথা বিবেচনা করায় জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন।
প্রকল্পটি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আবদুজ্জাহের সাজু বলেন, নদী ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল। বিষয়টি মাথায় রেখে জন্মস্থান রক্ষায় প্রকল্পটি অনুমোদনে আমি বিভিন্ন কার্যালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। আজ প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পটি অনুমোদনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, অনুমোদন হওয়া ওই প্রকল্পটি দিয়ে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ভয়াবহ ভাঙনকবলিত ৩১ দশমিক ৩২ কিলোমিটার মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর-রামগতি) আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জানান, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালানোর পর প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পরিকল্পনা মন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালের দিকে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় মেঘনার ভাঙন শুরু হয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ভাঙনে অসংখ্য গ্রামসহ ৩০ হাজার একর ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কলোনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ এবং কাঁচা-পাকা সড়ক, মসজিদ, বিভিন্ন স্থাপনা ও হাটবাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবির একপর্যায়ে ২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুর সফরে এসে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘রামগতি ও কমলনগর উপজেলাধীন বড়খেরী ও লুধুয়া বাজার এবং কাদিরপণ্ডিতের হাট এলাকা ভাঙন হতে রক্ষাকল্পে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। । স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য আবদুজ্জাহের সাজুর প্রচেষ্টায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেক সভায় অনুমোদন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!