মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

মেঘনায় জলোচ্ছ্বাস : বাঁধ ভেঙে কমলনগর-রামগতির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতিতে পাঁচ থেকে ছয় ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনার এ জোয়ারের স্রোতে বিভিন্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে দু’উপজেলার নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে ১২টি বাজারসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে থাকায় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জোয়ারের পানির স্রোতে অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ তলিয়ে রয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি ক্ষেত।
স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুরে থেকে মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তে থাকে। বুধবার দুপুরে এ জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে যায়। এতে মেঘনা নদীর তীরবর্তী কমলনগর উপজেলার চরসামছুদ্দি, মতিরহাট, নাছিরগঞ্জ, কাদিরপণ্ডিতেরহাট, চরজগবন্ধু, লুধুয়া ফলকন ও পাটারীরহাট এবং রামগতি উপজেলার পশ্চিম বালুরচর, জনতা বাজার, সেবাগ্রাম, চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী ও চরগজারিয়াসহ ১৫টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। একদিকে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ; অন্যদিকে মেঘনার ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে বিলীন হওয়া বেড়িবাঁধের উন্মুক্ত অংশ পুনর্নির্মিত না হওয়ায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে ওই গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। জোয়ারে তলিয়ে রয়েছে মতিরহাট, কাদিরপণ্ডিতেরহাট, নাছিরগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, লুধুয়া, জনতা বাজার, বিবিরহাট, কামাল বাজার ও চেয়ারম্যান বাজারসহ অন্তত ১২টি বাজার। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার আউশ ধান ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে থাকা ওই গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
কমলনগর উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ও পাটারীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম নুরুল আমিন রাজু জানান, জোয়ারের পানি থেকে রক্ষায় নির্মিত তাদের ইউনিয়নের সদ্য নির্মিত অন্তত পাঁচটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পানি ভিতরে ঢুকে পড়েছে। এতে মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।


রামগতি উপজেলার চরআব্দুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, জোয়ারে তার ইউনিয়নের জনতা বাজার, কামাল বাজার ও চেয়ারম্যান বাজার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
একই উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন জানান, জলোচ্ছ্বাসের কারণে তার ইউনিয়নের অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনার জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলো পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার খবর পেয়ে তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!