বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

শিক্ষায় এগিয়ে আ’লীগের মেজু, সম্পদে বিএনপির পটু

নিজস্ব প্রতিবেদক : চতুর্থ ধাপে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বর্তমান মেয়র এম মেজবাহ উদ্দিন মেজু (প্রতীক-নৌকা), বিএনপি মনোনীনত প্রার্থী পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবি আব্দুল্যাহ (নারিকেল গাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সংগঠনটির পৌর শাখার সহসভাপতি মো. আবদুর রহিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন (জগ)। তাদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেজু। আর নগদ অর্থসহ সম্পদের দিক দিয়ে সকলের চাইতে এগিয়ে বিএনপি মনোনীনত প্রার্থী পটু। নির্বাচন কমিশনে ওইসব প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী
রামগতি পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম মেজবাহ উদ্দিন মেজু। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৬৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। স্নাতক পাশ মেজু পেশায় ব্যবসায়ী। নিজের এক লাখ ২০ হাজার ও স্ত্রীর দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকাসহ তার বার্ষিক আয় তিন লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে চলমান কোনো মামলা নেই। অস্থাবার সম্পদের মধ্যে নিজের নগদ ৫০ হাজার ও স্ত্রীর ২০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা রয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং এক লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে দুই শতক ও স্ত্রীর নামে ৩৪ শতক অকৃষি জমি এবং একটি টিনশেড পাকাঘর রয়েছে। ঋণ হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক রামগতি শাখায় তিন লাখ টাকার এবং সোনালী ব্যাংক চরআলেকজান্ডার শাখায় ২০ হাজার টাকার ঋণ চলমান রয়েছে।

বিএনপি প্রার্থী
তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী সাহেদ আলী পটু। ১৯৬১ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া পটু স্ব-শিক্ষিত; পেশায় ব্যবসায়ী। বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৭০ হাজার, ব্যবসা থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার ও অন্যান্য উৎস থেকে আয় দুই লাখ ১৫ হাজার। তার বিরুদ্ধে চলমান কোনো মামলা নেই। অতীতে পাঁচটির আসামী হলেও সবগুলো থেকে খালাশ পেয়েছেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নগদ অর্থ ১৮ লাখ ১৭ হাজার ও স্ত্রীর ৫০ হাজার, স্বর্ণ ৪০ ভরি, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ৭০ হাজার এবং আসবাবপত্র রয়েছে ৮০ হাজার টাকার। এছাড়া ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে ২২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি নিজের নামে আট একর তিন শতক, অকৃষি জমি ৮০ শতক এবং স্ত্রীর নামে কৃষি জমি রয়েছে এক একর ৬৭ শতক। ঋণ হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক রামগতি শাখায় ১৫ লাখ টাকার সিসি ঋণ রয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী (আবি আব্দুল্যাহ)
পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছেন নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবি আব্দুল্যাহ। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি। এইচএসসি পাশ আব্দুল্যাহর পেশাও ব্যবসা। তার নামে দু’টি মামলা থাকলেও একটিতে খালাশ পেয়েছেন এবং অপরটি বিচারাধীন। কৃষি খাত থেকে ২০ হাজার এবং ব্যবসা থেকে আড়াই লাখ টাকাসহ বার্ষিক আয় দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৩০ হাজার, ব্যাংকে জমা ছয় হাজার ৭৫০ টাকা, স্বর্ণ ১০ ভরি, একটি মোবাইলসেট, দু’টি করে ফ্রিজ, খাট, টেবিল ও ২০টি চেয়ার রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে এক একর ৪২ শতক কৃষি এবং ১১ শতক অকৃষি জমিসহ একটি টিনশেড ঘর রয়েছে। তার কোনো দায়-দেনা নেই।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী
১৯৯৫ সালের ২২ জুন জন্ম নেওয়া হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুর রহিমের প্রথম নির্বাচন এটি। মাদরাসা বোর্ড থেকে ফাজিল পাশ রহিমের পেশা চাকুরী। বার্ষিক আয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ২০ হাজার ৫০০, ব্যাংকে ১৩৪ টাকা ও সাড়ে তিন হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩০ শতক কৃষি জমি ও একটি টিনশেড ঘর। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং কোনো ঋণও নেই।

জাতীয় পার্টি প্রার্থী
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. আলমগীর হোসেনের জন্ম ১৯৬৬ সালের ৫ মার্চ। স্ব-শিক্ষিত আলমগীর পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে স্বর্ণ ১০ তোলা, একটি ফ্রিজ, দু’টি করে খাট, টেবিল, তিনটি ফ্যান ও পাঁচটি চেয়ার রয়েছে। এছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৫০ শতক কৃষি ও ১৪ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। ঋণ হিসেবে কৃষি ব্যাংক চরআলেকজান্ডার শাখায় ২০ হাজার চলমান ঋণ রয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী (জামাল উদ্দিন)
জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জামাল উদ্দিনের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি। স্ব-শিক্ষিত জামালের পেশা চাকুরী। বিচারাধীন থাকা এক মামলার আসামী তিনি। বার্ষিক আয় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ এক লাখ, স্বর্ণ দুই লাখ, ইলেকট্রনিক্স পণ্য এক লাখ, আসবাবপত্র এক লাখ ও তিন লাখ টাকার অন্যান্য পণ্য রয়েছে। এছাড়া স্থাবার সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমি রয়েছে ৫০ শতক। কোনো দায়-দেনা নেই তার।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!