বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:০১ অপরাহ্ন

রাজাকারপুত্রকে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজাকারের সন্তানকে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি মনোনয়নের প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তারা একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। এতে তারা আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, সারাদেশের মতো কমলনগর উপজেলার ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ২১ জনের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে; আরও ২১ জনের যাচাই-বাছাই আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ২৫ জানুয়ারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি মনোনীত করে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি তালিকা প্রেরণ করেন।
তাদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের উপজেলা কমিটিতে যুদ্ধকালীন কমান্ডার অথবা ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সভাপতি করার কথা থাকলেও মোস্তাফিজুর রহমান সেই ক্যাটগরির কেউ নন। এমনকী তিনি একজন ‘বিতর্কিত’ মুক্তিযোদ্ধা। তাছাড়া তার বাবা আব্দুল গফুর তহশিলদার পিস কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজাকারদের সংগঠক এবং চাচা আব্দুল হালিমও রাজাকার ছিলেন। মূলত, রাজাকার বাবা ও চাচাকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য ‘গুপ্তচর’ হিসেবে মোস্তাফিজ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অনুপ্রবেশ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যাও করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মো. সফিক উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান, আবুনুর সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, মো. নাছির ও আব্দুল অদুদ জানান, এ উপজেলার যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও ‘কুখ্যাত রাজাকারের’ সন্তান এবং ‘বিতর্কিত’ মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি মনোনীত করা খুবই লজ্জাষ্কর। যে কারণে, যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত রেখে ওই কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান তারা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রতিহিংসাবশত তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাছাড়া রাজাকার ইস্যুতে তার বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!