বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে লরেন্স ইউনিয়ন কৃষকলীগ নেতার অর্থ আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবুল কাশেম নামে কৃষকলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে অসহায় নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে ওই কৃষকলীগ নেতা কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার অসংখ্য নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। দীর্ঘদিনেও কার্ড না হওয়ায় ওই টাকা ফেরত চেয়ে এখন কৃষকলীগ নেতার হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন অসহায় নারীরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত কাশেম উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি এবং একই এলাকার ভক্ত চৌধুরীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে কৃষকলীগ নেতা কাশেম মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে চরলরেন্স এলাকার মো. ইব্রাহীমের স্ত্রী নয়ন বেগম, একই এলাকার মো. ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুম বেগম, মো. মাহফুজের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নাছিমা আক্তার ও আলাউদ্দিনের স্ত্রী রুনা আক্তারসহ ১৩ নারীর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। কিছু দিন পর কার্ডের ফরম বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে আরও ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তারা ৬০০ টাকা দিয়ে গর্ভধারণ সনদের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তারা ভাতার তালিকাভুক্ত হতে না পেরে ওই কৃষকলীগ নেতার কাছ থেকে টাকা ফেরৎ চান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
চরলরেন্স এলাকার নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মিনরা বেগম জানান, প্যারালাইজড স্বামী, এক ছেলে, প্রতিবন্ধী মেয়ে ও ঘরজামাইসহ অভাবের সংসার তার। এক বছর আগে তার প্রতিবন্ধী মেয়ে নাছিমা আক্তারের নামে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান কৃষকলীগ নেতা কাশেম। এজন্য তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকাও নেওয়া হয়। টাকাগুলো প্রতিবেশী এক ব্যক্তির কাছ থেকে চড়াসুদে নিয়ে তিনি তাকে দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নাছিমার নামে কোনো কার্ড হয়নি। উল্টো প্রতিমাসে সুদের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে তাকে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নুরুল হুদার স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, গরীব হওয়ায় খেয়ে-না খেয়ে কোনো রকম সংসার চলছে তাদের। প্রায় এক বছর আগে কাশেম মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনো কার্ডের কোনো খবর নেই।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযোগকারী এ ১৩ জন ছাড়াও কাশেম এলাকার আরও অনেক নারী-পুরুষকে বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতার দাপটের কারণে ভুক্তভোগীরা তার এসব কর্মকা-ের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষকলীগ নেতা আবুল কাশেম বলেন, ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্তরা নেই। রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য আমার নামে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. হারুনুর রশিদ জানান, ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে কাশেম কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবুও কাশেমের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!