বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

বিনামূল্যে হাঁস-মুরগি-ভেড়া পাচ্ছে কমলনগরের সাড়ে তিন হাজার পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে বিনামূল্যে হাঁস-মুরগি ও ভেড়া পাচ্ছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার সাড়ে তিন হাজার দরিদ্র পরিবার। উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তাদেরকে এ সুবিধা দিচ্ছে। বুধবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বিনামূল্যে হাঁস-মুরগি ও ভেড়া বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল চত্বরে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আইয়ুব মিঞার সভাপতিত্বে এবং উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারি প্রকল্প পরিচালক এসএম জিয়াউল হকের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রকল্পটির পরিচালক ডা. নিতাই চন্দ্র দাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহিব উল্যাহ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন প্রমুখ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আকতারুজ্জামান জানান, উপকূলীয় চরাঞ্চলের গরিব মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র খামার স্থাপন করে ডিম ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষ্টি-আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষে সরকার তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্পটি হাতে নেন। এর আওতায় কমলনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের তিন হাজার ৫৪২টি পরিবারকে সুফলভোগী হিসেবে নির্বাচিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত ওইসব দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এক হাজার ৭৫০ পরিবারকে ১৮টি স্ত্রী হাঁস ও দু’টি পুরুষ হাঁস, এক হাজার ৫০ পরিবারকে ১৮টি মুরগি ও দু’টি মোরগ, ৭০০ পরিবারকে দু’টি ভেড়ি ও একটি ভেড়া, সাতটি পরিবারকে একটি কবুতরের ঘর এবং ৩৫টি পরিবারকে উন্নতমানের নেপিয়ার ঘাস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হবে। পাশাপাশি বিনামূল্যে দেয়া হবে হাঁস, মুরগির জন্য ৬৫ দিনের ও ভেড়ার জন্য ৮০ দিনের খাবার। এসব প্রাণি রাখা ও প্রতিপালনের জন্য বিনামূল্যে ঘর তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে ভ্যাকসিন ও মেডিসিনও দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ডা. নিতাই চন্দ্র দাস জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ মেঘনা উপকূলের দরিদ্র পরিবারগুলোর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মিটবে পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা। এছাড়া নারীর কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস সৃষ্টির মাধ্যমে দূরীকরণ হবে নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্যের।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!