শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

কমলনগরে মেঘনার ভাঙনে দেড়শ’ বছরের পুরোনো মসজিদ বিলীন

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরোনো একটি জামে মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকার ‘বাঘার হাওলা ঈদগা জামে মসজিদের’ আধাপাকা ভবনটি মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে মেঘনায় তলিয়ে যায় মসজিদ সংলগ্ন শিশুদের ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রটিও (মক্তব)। ভাঙনের তীব্রতায় এখন বিলীনে পথে চরফলকন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি দ্বিতল ভবনসহ একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনও। যে কোনো মুহূর্তে ওই ভবনগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভবনগুলো রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় একশ’ মিটার এলাকায় মেঘনার তা-বলীলা চলছে। চোখের পলকে মক্তব ও মসজিদের ভিটেমাটিসহ কবরস্থান মেঘনায় তলিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন এখন ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছর আগে নির্মিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের কাছে চলে আসায় জিও ব্যাগের বাঁধ নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্টরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভবনটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান শিরাজ ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদের তত্ত্বাবধানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।
বাঘার হাওলা ঈদগা জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মফিজুল ইসলাম বাঘা জানান, বৃহস্পতিবার তারা মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ করে ভয়বহ ভাঙন দেখা দিলে মসজিদ ভবনটির পশ্চিম অংশ বিলীন হয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা মসজিদের টিনের চালাসহ অন্যান্য মালামাল খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাঙনের তীব্রতার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। চোখের পলকেই পুরো ভবনটি নদীগর্ভে চলে যায়। পরে জোহরসহ অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ তারা মসজিদের সামনে খোলা মাঠে আদায় করেন। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ হলেও এমন ভাঙন জীবনে কখনও দেখেননি বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রায় দেড়শ’ বছর আগে এ মসজিদটি স্থাপিত হয়। পরে মসজিদকে কেন্দ্র করে এখানে ঈদগাও প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানকার কয়েকটি গ্রামের মধ্যে এ ঈদগাটি ছিলো সব চেয়ে পুরোনো।’


মসজিদের মুয়াজ্জিন ও মসজিদ সংলগ্ন মক্তবের শিক্ষক মো. শামছুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালেও ৪২ জন শিশুকে ওই মক্তবে ধর্মীয় শিক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই মক্তবটি এখন নদীগর্ভে। শুক্রবার ওই শিশুরা কোথায় পড়বে?-এ প্রশ্ন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এদিকে, দেড়শ’ বছরের পুরোনো ওই মসজিদটি ভেঙে যাওয়ার খবরে শত শত লোক নদীপাড়ে ছুঁটে যান। এ সময় প্রবীণ অনেক ব্যক্তিকে আহাজারি করতে দেখা যায়।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ জানান, বিদ্যালয়-মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন রক্ষায় জুলাই মাসে আপদকালীন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রকল্পটির আওতায় সেখানকার ৪শ’ মিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগসহ মসজিদ ভবনটি নদীগর্ভে চলে যায়। এ আতঙ্কে বিদ্যালয় ভবনগুলো রক্ষায় আজও প্রায় দেড় হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান শিরাজ জানান, বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষায় বৃহস্পতিবার রাতেও জিও ব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় সাংসদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে সেখানে ব্লক ডাম্পিং করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জানান, দেড়শ’ বছরের পুরোনো ওই মসজিদ ভবনটি মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। অনেক চেষ্টার পরও মসজিদ ভবনটি রক্ষা করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন বিদ্যালয় ভবনগুলো রক্ষায় ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে হলেও তিনি সেখানে ব্লক ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!