শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

কমলনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবল সঙ্কট : দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সাত পদের মধ্যে তিনটি পদই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এ জনবল সঙ্কটের কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা করা হয়নি। এতে করে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ১৪টি কিন্ডার গার্টেন ও ১২৬টি আনন্দ স্কুলসহ প্রাথমিক পর্যায়ের ২১৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একটি, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দু’টি ও উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়কের একটি করে পদসহ সাতটি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর মধ্যে একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারীর পদ দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত শূন্য। ফলে একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকেই সবগুলো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে হচ্ছে। পাশপাশি হিসাব সহকারীকে করতে হচ্ছে উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারীর কাজ। এতে করে বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে তাদেরকে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান জানান, বেতন-ভাতাসহ স্কুলের বিভিন্ন কাজে তাদেরকে প্রায়ই শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। কিন্তু শিক্ষা অফিসে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় সেখানে তাদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগে। ফলে স্কুলে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার বিঘ্ন ঘটছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারীর পদগুলো শূন্য থাকায় তিনি একাই এ দপ্তরের সব কাজ পরিচালনা করছেন। এতে অফিসে আসা শিক্ষকদের ভোগান্তীতে পড়াসহ কার্যক্রম চালিয়ে নিতে তাকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম এহচানুল হক চৌধুরী জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কাজকর্ম চালিয়ে নিতে তাদেরকে খুব বেগ পোহাতে হচ্ছে। যে কারণে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে শূন্য পদগুলো পূরণে তিনি বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা করা হয়নি। তাই, পদগুলো নিয়মিত করতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Priyo Upakul
Design & Developed BY N Host BD
error: Content is protected !!